শীতের সময় মানুষের চুল ও চামড়া রুক্ষ হয়ে যায়। শীতকালে দিন একজন যুবক মানুষকেও বেশি বয়স্ক দেখায়। মুখের চামড়ায় খসখসে হয়ে যায়। চুলের ড্যানড্রফ প্রবলেম দেখা দেয়। ইউনিভার্সিটি অফ কোপেনহেগেনে একটা রিসার্চ হয়েছে সেখানে দেখা গেছে ঠান্ডার সময় মানুষের স্কিনে ব্যারিয়ারটা নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি প্রচুর চুল পড়তে থাকে, এতে অনেকেই ঘাবড়ে যায় ভীষণভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েন।
শীতের সময় আমরা এমন পাঁচটি ভুল করি যা গরমের রোদে চামড়া যেমন নষ্ট হয়। তার থেকেও অনেক বেশি চামড়া নষ্ট হয় এই শীতের সময়। আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনারা সেই ভুলগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সেগুলো থেকে বাঁচার উপায়ও দেখতে পারবেন।
তাই জেনে নিন শীতকালে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন এবং কোনরকম ক্ষতি হবে না। নিজের ত্বক এবং চুল অনেক বেশি হেলদি থাকবে নিজেকে ইয়াং মনে হবে। নিচে যে নির্দেশনা গুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো আপনি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করেন তাহলে দেখবেন ম্যাজিক এর মত কাজ করবে।
শীতকালে অনেকেই প্রচুর ভেসলিন লাগায়, মশ্চারাইজার লাগায়, গরম জলে পা ধুয়ে রোজ পরিষ্কার রাখে। কিন্তু তাও তাদের চামড়া খসখসে হয়ে যায়। আপনারও যদি এই একই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে আপনি নিচের নির্দেশনা গুলো ফলো করবেন:
এই সমস্যাগুলো হয় তার প্রধান কারণ হলো শীতকালে বাতাসের আদ্রতা অনেক কমে যায়। এই কারণে মানুষের শরীরের চামড়া যে লিপিডের লেয়ার থাকে সেটা অনেক পাতলা হয়ে যায়। আর ট্রান্স এপিডারমাল ওয়াটার কমতে থাকে। যার ফলে ঘুমের মধ্যে শরীর থেকে অনেক বেশি জল বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর অনেক শুকনা হয়ে যায়। আর চুলের আগা ফাটা ভাব আরো বেশি দেখা যায়, যার কারণে মাথায় খুসকি দেখা যায়, চুলের মধ্যে ফাংগাল ইনফেকশন হয়ে যায়, চুলগুলো প্রচন্ড রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুল পড়া শুরু হয়। আর এই কারণেই শীতকালে মানুষকে ভীষণ রুক্ষ দেখায়।
শীতকালে যে কাজগুলো ভুলেও করা যাবে না
১. খুব বেশি গরম জল মুখে ও চুলে ব্যবহার করা যাবে না।
সোল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে একটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে মানুষের শরীরে ক্যারটিন প্রোটিন থাকে গরম জল সেগুলোকে নষ্ট করে দেয় এর জন্য চামড়া আরো অনেক রুক্ষ হয়ে যায়। যার ফলে চুল পড়তে থাকে, তাহলে বুঝতে পারলেন বেশি গরম জল ব্যবহার করলে চুল ও চামড়া আরও বেশি রুক্ষ হয়ে যায়। এই কাজটি থেকে বিরত থাকতে হবে।
যখন দেখবেন জল অনেক বেশি ঠান্ডা। তখন জল একটু গরম করে দেবেন। যাতে স্বাভাবিক আদ্রতা ফিরে আসে তার জন্য। কিন্তু বেশি গরম করা যাবে না।
২. ৬০ সেকেন্ড ধরে মুখ পরিষ্কার করবেন।
এই বিষয়ে ডার্মাটোলজিস্ট ডক্টর ফুমিকো টাকাসু এটা সাজেস্ট করেছেন। মুখ পরিষ্কার করার জন্য যদি ৬০ সেকেন্ড ধরে মুখটা পরিষ্কার করা হয় তাহলে মুখের টেক্সচারটা অনেক ভালো হয়। লোমকূপের মধ্যে যে তেল থাকে তা সুন্দরভাবে পরিষ্কার হয়। যার ফলে মুখের স্কিন আরো অনেক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
৩. শীতে ত্বকের ডায়েট
শীতের সময় শীতের ডায়েট ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যা একজন মানুষের ত্বক এবং চুলকে আরো ভালো রাখে। আসলে ৭০ শতাংশ খাবারের ওপর নির্ভর হয় একজন মানুষের চুল ও চামড়ার স্বাস্থ্য কতটা ভালো থাকবে। মাত্র ৩০ শতাংশ নির্ভর করে মানুষ কিভাবে এবং কোন ধরনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করছে তার উপর।
আরো পড়ুন: কপি ভিডিও দমনে মেটার নতুন টুলস আসবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে
শীতকালে প্রচুর ওমেগা থ্রি জাতীয় খাবার দরকার। ওমেগা থ্রি মানুষের ইনফ্লামেশন এবং রুক্ষতাকে আটকে দেয়। তার সাথে সাথে ভিটামিন ই খুব দরকার চামড়াকে স্বাথ্যবান রাখার জন্য। শীতকালে আপনার ডায়েটের সাথে যে খাবারগুলো রাখবেন তা হল চিয়া সিড। চিয়া সিড প্রতিদিন একবার খাবেন। ডায়েটে বাদাম, সামুদ্রিক মাছ, ঘি, আমলকি, কমলালেবু, পেঁপে, লেবু খারবেন। শীতকালে এই ধরনের খাবার খেলে কোলাজেন সঠিক থাকে। এই খাবারগুলো যদি একজন মানুষ নিয়মিত খায় তাহলে শীতকালে হলেও ত্বক সতেজ থাকবে।
৪. চামড়া স্তর রুটিন
শীতের সময় বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন। নানা জিনিস ব্যবহারের ফলে স্কিন ড্যামেজ হয়ে যায়। প্রথম কাজ হচ্ছে ক্লিনজার দিয়েও খুব ভালো করে ৩০ সেকেন্ড ম্যাসাজ করে মুখটা ধুয়ে ফেলা। তারপরে একটা হাইড্রেটিং মিসড ব্যবহার করা যা চামড়ার আদ্রতা কে ধরে রাখবে। সেটা তুমি এলোভেরা বা গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারো। এরপরে হাইড্রোলিক এসিড আছে এমন একটা মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
এছাড়াও হাইড্রোলিক এসিডের সিরাম ও পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়াও সেরামাইড বেস্ট মশ্চারাইজার লাগাবে সবসময়। তারপর মশ্চারাইজার লাগাবে আর মশ্চারাইজারের পরে সানস্ক্রিনটা অবশ্যই লাগাতে হবে। সেটা শীতকালে ব্যবহার করতে হবে।
৫. শীত কালে চুল পড়ার সমাধান
শীতকালে চুলের জন্য কি করবে? একটি স্টাডিতে দেখা গেছে শীতকালে এত লো হিমিউডিটির জন্য চুলের প্রোটিন খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। আর এই কারণে চুল বেশি ঝরে পড়ে। এটাকে কমাতে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অয়েল ম্যাসাজ করতে হবে। অয়েল ম্যাসাজ করে মাথায় গরম তোয়ালে বা গরম কিছু জড়িয়ে রাখতে হবে ৩০ মিনিট। পরে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। তেল মাথায় লাগাবার পর ৫ মিনিট যখন মাসাজ করবে তখন মাথার ভেতরের ব্লাড সার্কুলেশন বাড়তে থাকবে। আর যতবারই শ্যাম্পু করবে শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।
