২০১২ সালের পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত জগতে যত গান ভাইরাল হয়েছে তার মধ্যে কোক স্টুডিও পাকিস্তানের পাসুরি নি সন্দেহে সবচেয়ে আলোচিত একটি গান। শুধু পাকিস্তান নয় ভারত বাংলাদেশ নেপাল মধ্যপ্রাচ্য এমনকি ইউরোপ আমেরিকার তরুণ শ্রোতাদের মাঝেও গানটি তৈরি করেছে এক অনন্য ঝড়।
গানের সুর, উপস্থাপন, গায়ক গায়িকার কণ্ঠ সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে বৈশ্বিক ফেনোমেনা। কিন্তু অনেকেই জানেন না পাসুরি তে যিনি নারী কণ্ঠ দিয়েছেন সেই শে গিল আসলে খুবই সাধাসিধে, লাজুক এবং চমৎকার এক শিল্পী। তাঁর জীবন, ক্যারিয়ার, সংগ্রাম ও সাফল্য সম্পর্কে জানার মতো অনেক অজানা তথ্য রয়েছে।
শে গিল কে এক অপ্রচলিত পথের সঙ্গীতশিল্পী
শে গিলের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাকিস্তানের লাহোরে। তাঁর পরিবার শিল্পী পরিবারের না হলেও ছোটবেলা থেকেই সংগীত ছিল তাঁর নেশা। স্কুল কলেজে গান গাইতেন ঠিকই, কিন্তু কখনো ভাবেননি তিনি বড় গায়িকা হবেন।
শে গিল বন্ধুর অনুপ্রেরণায় ইনস্টাগ্রামে কাভার গান আপলোড করা শুরু করেন। মজার ব্যাপার হলো তিনি প্রথমদিকের কোনো ভিডিওতে নিজের মুখও দেখাতেন না। কেবল অডিও দিয়েই গান শোনাতেন।
আরো পড়ুন: Huawei Mate X7 বিশ্ববাজারে চলে এসেছে
তিনি নিজেকে বলতেন। অর্থাৎ নিজের ঘরে বসে কোনো স্টুডিও ছাড়াই গান রেকর্ড করতেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল এক ধরনের নরম, মায়াবী আবেগ যা দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রোতাদের নজর কাড়ে।
পাসুরি আসলে কিভাবে তাঁর জীবনে এলো
কোক স্টুডিওর প্রযোজক দল যখন ‘পাসুরি’ গান নিয়ে কাজ শুরু করছিল, তখন মূল গায়ক আলি সেত্থি নতুন একটি ফিমেল ভোকাল খুঁজছিলেন। তাঁরা এমন একটি কণ্ঠ চাচ্ছিলেন যা একদম সতেজ। প্রচলিত স্টাইলের বাইরেআবেগপ্রবণ এবং কোমলএবং নতুন শ্রোতাদের আকৃষ্ট করতে পারে।
ঠিক এই জায়গাটিতেই তাঁদের নজরে আসে শে গিলের ইনস্টাগ্রামের কাভার ভিডিওগুলো। আলি সেত্থি তাঁর কাজ দেখে মুগ্ধ হন। এরপর শে গিলকে কোক স্টুডিওর পক্ষ থেকে কল করা হয়। প্রথমে শে গিল ভেবেছিলেন এটি মজা বা ভুল কল। পরে সত্য বুঝে তিনি আবেগে কেঁদে ফেলেন।